এক.
আমি অষ্টপ্রহর ডুবে থাকি নোনাজলে
শরীরে অভিমান লেপ্টে, উন্মাদনায় বিলুপ্ত ভুল করে, ভুল আয়োজনে
তোমাকে জাগাবো বলে হৃদয় ছিঁড়ে, নিশ্চিত মৃত্যু থেকে ঘুরে এসে নিজেকে সঁপে দেই তোমার মায়াজালে!
মৃত্যুর পরে মৃত্যুকে চিনেছি
আজো ভুল করি তোমাকে চিনতে,
বজ্রপাতে বুকের ভিতর শব্দ, মনের কার্নিশে নাচে মেডুসা একপাশে বেহিসাবী ভালোবাসার রক্তস্নান, অন্যপাশে বিষের বাঁশিতে আচ্ছন্ন আমি, বুকের পাটাতনে শুনি তোমার পদঘাত! নিশ্চিত মরন জেনেও নির্লজ্জ আমি কষ্ট গিলে শুয়ে পরি মৃত্যুর উন্মুক্ত বুকে।
ভুলে যাই তুমি এখন ডানপিটে স্বৈরী
তীব্র যাতনায় কেবল তিতকুটে ঢেঁকুর
ঘুম চোখে অদ্ভুত এক শূন্যতা বুকে,
তোমার মায়ায় আচ্ছন্ন হতে হতে আবারো,
ঘোর তন্ময়ে নির্ভুল ভুলগুলো জেগে উঠে! নিশ্চিত বিভ্রান্তি জেনেও সব চূরমার করে,
অন্ধকারের ভিতরে তোমাকে চিনে ফেলি আমি।।
দুই.
মনে হচ্ছে, সব ভেসে যাচ্ছে।
হাতের মুঠো থেকে পৃথিবী, মাথার উপরে আকাশ,
পায়ের তলায় জমিন,
জল-জোছনায় ঘোর অমাবস্যা বৃষ্টির ছন্দ,
নয় কাশবনের শুভ্রতা, কিছু একটা সরে যাচ্ছে।।
চোখের ভিতর কষ্ট নড়ে উঠে,
বুকের ভাঁজে একটি নক্ষত্র খশে পরে!
মনে হচ্ছে, কিছু একটা হাড়িয়ে যাচ্ছে।।
ঠিক যেমন ছোট বেলার কাপরের পুতুল
বইয়ের ভাঁজে লুকিয়ে রাখা প্রথম চিঠি।
মনে হচ্ছে, কিছু একটা উড়ে যাচ্ছে।।
দক্ষিণা বাতাসে ষোড়শীর সর্বনাশা চুল কিংবা নীলাকাশ থেকে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র,
কিছু একটা উড়ে যাচ্ছে।।
এক ফোটা চোখের জলে নোনা বিস্বাদ কদমের ঘ্রাণ,
ভেজা মাটির আমিষ গন্ধ পৃথিবীর জমিনে যে ভালোবাসার চাষ
সব কিছু ছুটে যাচ্ছে।
মনে হচ্ছে, কিছু একটা ভেসে যাচ্ছে।

