এক.
ঝুম বৃষ্টি এলে পায়েল হারানো দিন পিছুডাকে।
শিউলি ছায়ায় পড়ে থাকে মন।
ভিজে যায় পুরোনো গল্পের খাতা।
আমার পুত্র আমাকে নতুন করে ভোর দেখায়।
যে দেখার চোখ আমার কোনো কালেই ছিলো না।
আমরা প্রতিদিন নদীর গল্প বলি, বলি বাবুই পাখির সংসারের সুখ আমাদের হোক।
পুত্র আমাকে ফুলের দেশে নিয়ে যাবে। পাহাড়ের মতো সবুজ হবো আমরা।
পালকের ভিড়ে আমি দুহাত জড়িয়ে থাকি।
যে একটু একটু করে পৃথিবী দেখছে তাকে সহজ হতে বলি।
পুত্র তার গন্ধরাজ হাসিতে রোজ আমাকে ভোর দেখায়…
দুই.
পৃথিবীতে সন্ধ্যা নামে, ভোর নামে।
আমরা যে যার ভূগোলে দিন রাতের গল্প লিখি।
ফানুস উড়ানো রাতে আমরা পালকের মতো উড়ি।
জীবনের সম্মোহন আমাদের মায়ায় আটকে দিচ্ছে।
জানো পৃথিবী-
আমরা প্রতিদিন সংসার সংসার খেলি।
আমরা প্রতিদিন সবুজের চাষ করি।
তিন.
কাল সারারাত বৃষ্টি হয়েছে। সকালের চিলতে রোদ আর নরম মাটি সকালটাকেও নরম করে তুলেছে।
আম গাছের শরীর বেয়ে অজস্র পরগাছা নামছে। বৃষ্টির জলে ভিজে আছে শ্যাওলা জমা গাছের বুক।
বাবার বাগানে সকাল হতেই কতো কতো ঘুঘুপাখি যে জড়ো হয়। তাদের গানে শীতল হয়ে ওঠে সকাল।
সেই সাথে কোকিল আর ইষ্টিকুটুম পাখি থেকে থেকে ডেকে যায়।
কাঁঠাল গুলো অকালে ঝরে যাচ্ছে। ঝরে যাচ্ছে শিশু বয়সের আম আর লিচু।
ক্রমে শূন্য হতে থাকা বাড়ি কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে। মনে হয় এই শূন্যতার কোনো শেষ নেই।
চারপাশ জুড়ে এমন গিলতে আসা শূন্যতাকে ভয় লাগে আমার।
আঙুলের রেখায় আমি দিনের হিসেব করি। সিঁদুররঙা আম গাছের ছায়ায় নিজেকে চিনতে ভুল হয়…

