ঘন প্রেম
তোমাকে দেখার পরে মহা পৃথিবী
পিঁপড়ের পাখনায় ওড়ে;
তুমি তুমি রবে জগতের সকল কথাগুলো
চায়ের লিকার ভ্রমে উচ্ছিষ্ট।
কাঠবিড়ালির লেজের উচ্ছ্বাস আমের
মুকুলের সাথে হাসলেই যুগল কবুতর
আমাদের চোখে চোখ ছোঁয়ার গল্প বলে।
গল্পের ঝুড়ি নিয়ে মেহগনির
কুঁড়ি নতুন পাতাদের সংসারে কতো কতো
জীবনী দরকার তার ফিরিস্তি
বাতাসে লিখে দেয়।
যারা মহা পৃথিবী দেখছো, একটা
অলিক স্বপ্ন ভেবে ফেলে এসো সুরে।
সুরে সুর বান্ধা ছাড়া আলো হাওয়া
পান- আহার বেসুরো। যাপনে আত্মা
আত্মায় ছোঁয়া ছাড়া কীসে এত
দরকারি জীবন!
ছুঁই চোখে চোখ, মনে মন, তোমাতে
আমি আমাতে তুমি;
ছোঁয়ার পরে মহাকাশ তোমার বুকের ঘন প্রেম…
মন
ওহ মন, তরঙ্গের ওপর ভেসে থাকে,
যেন এক ফোঁটা শ্বাস
নিমেষেই হারিয়ে যায়।
ছুঁয়ে ফেলে সেই নদী,
যেখানে বিছানো
প্রিয় হৃদয়ের নরম মানচিত্র।
সবকিছু এত চুপিচুপি,
ঠিক বিকেলের মতো,
কোনো কথা নেই,
সংকেতও না,
শুধু ধীরে ধীরে
গভীর অন্ধকারে ডুবে যাওয়া।
তীব্র ভূমিকম্পের আগে
যেমন নীরবে ওঠে কম্পন,
তেমনই তার
কোমল, শান্ত স্বরের জাদু;
মৃদুমন্দ সুরে
তীব্রতার আবেশ জাগায়।
টেনে নেয় গহিনে,
নিরিবিলি গানের ভেতর,
মাতাল এক ঘরে ঘুমের
নীরবতা আমাকে শিখিয়ে দেয়,
কীভাবে চুপ করে
ভালোবাসতে হয়।
বৃষ্টি
শূন্যস্থানে ভেসে শূন্যে মিলে যাওয়া
মেঘআত্মার গান প্রবল বৃষ্টি বাজায়,
বৃষ্টিসুর মধুর হতে হতে তেতো
বিস্বাদে মুখ কালো করে।
কালো লাল বুলিতে ডুবে মন
হেঁটে রেখে যায় চিহ্ন
আঁকাবাঁকা চিন্তা আঁকে রূপ,
তার ফেলে যাওয়া আত্মা নির্ঘুম
ঘুরে-ফিরে কাছে ডাকে; অথচ,
সেই ঘুমন্ত শরীর আর জাগলো না।
বৃষ্টি বিরহে প্রেমের জল দেখি না
মরুভূমি দাবদাহে।
বৃষ্টিতে আসে ঢল, হয়ে যায় বন্যা
বাতাসে, এরপর পৃথিবী মরুভূমি,
জলহীন হৃদয় চিরে ঠাঁই দাঁড়ায়ে;
সেই পুরাতন আর্তনাদে গলা ফাটে।

