১.
বহতা নদীর গান
তোমার সিঁথিতে বজ্রের ঝলক দেওয়া রঙ্গিন অভ্যাস—
অভ্যস্ততার দেয়াল খসে পড়লেই
সনাতন আকাশ কিংবা নদীর সমতা;
পাখিদের বাসা থেকে চুরি যাওয়া ছানা
ডাকছে করতলে— শোনো
কবিতার মলাটে কিছু অপ্রকাশ— কিছু রাখ ঢাক—
সশঙ্কিত প্রেম নিবেদনের মতো এলোমেলো উচ্চারণ;
জেনো রাখো, অশ্বত্থের ঝুরি ধরে দোল খেতে শেখা
আমি
ঝুলে আছি পাখির ডানায়,
আর আমজনতার ভিড়ে কেবল তোমাকেই লিখে যাই।
২.
ভাঁটিফুল
ছড়িয়ে থাকা ভাঁটিফুলে কয়েকটি পোকা
এসে বসেছে— যাদের নাড়ি নক্ষত্র কিছুই
আমার জানা নেই; জীবনানন্দ কী জানত!
জীবনে আনন্দ থাকলে মরা গোলাপের বারুদে
তোমাকে দেখি— লাবণ্য দাশেও দেখি অতি বেশি
সব ডায়েরির ভাঁজে ভাঁটিফুল থাকে না।
৩.
ধুতরা ফুল
ধুতরা ফুলের মতো নিদারুণ অবহেলায়
ফুটে আছে অজস্র প্রেমফুল—
কেউ সকাল সন্ধ্যায় জল দেয় না,
নিড়ানি বুলায় না,
সারের বালাই নেই,
নেই কোনো মালি-পুরুষের সহৃদ স্পর্শ—
তবু ফুটে থাকে ফুল
রোজ রোজ ভোরে।


