পারস্য তরুণীর নিলাব চোখ
তন্দুরি রুটির মতো তাপ নিচ্ছে সবাই।
একটা বেহেড বুড়ো মাতাল শৃগালের মতো চেচাচ্ছে-
আর বলছে- আজ রাতেই একটি প্রাচীন সভ্যতা
পৃথিবীর বুক থেকে নাই হয়ে যাবে।
যদিও পারস্য রক্তের বুক চেতানো জেদের কাছে
তার অসভ্য খোয়াব দীর্ঘ হচ্ছে।
কাসানের প্রতিটি গোলাপ ফোটা ফোটা রক্ত দিয়ে
প্রতিরোধের প্রাচীর গড়েছে।
আর্য রক্তে গড়া বিষাক্ত তীর আধুনিক মিশাইল হয়ে ছুটে যাচ্ছে এদিক ওদিক।
এখন প্রশ্ন করার সময় নয়-
কে পারসিক?
কে মসুলমান?
কে শিয়া?
কে সুন্নী?
এটা সভ্যতার সংকট।
এটা তামাম দুনিয়ার কাছে দুই দাঁতাল বুড়োর অশ্লীলতা।
দিনার; দিরহাম আর ডলারের ন্যাক্কার লাফালাফি।
নারী দখলের মতো তেলের বৈয়ম দখলের অপযশ আকাঙ্খা।
আর যারা এই রক্তের হোলি দেখেও মৌন হয়ে গেছে-
তাদের এই কপট সাধুতা দিলের আরশ থেকে অভিশাপ দিচ্ছে।
মনে রেখ বিশ্ব বিবেক। মনে রেখ মেকি সভ্যতা।
ইরানি ললনার নিলাব চোখ নাই হয়ে গেলে-
বসন্তের বাতাসও উন্মাদ প্রেমিকের মতো-
তোমাদের কলিজায় ঢেগার বসিয়ে-
চরম থেকে চরম প্রতিশোধ নিবে।
যদি একবার…
যদি একবার তোমাকে পেতাম
সুফির দরবারে বায়াত নিতাম।
এবার আর প্লেটোনিক নয়
গভীর চুম্বনে রক্তজবা হতাম।
কামনার বিষে জ্বলছি যেমন
ত্যাগের প্রশান্তি চাইছি তেমন।
মেনে নাও এই স্ববিরোধী সংলাপ।
তোমার কপোলে না ছুঁয়ালে ঠোঁট
ব্যর্থ হবে নির্বান লাভ।
নারী তোমার নাভীতে রেখেছি চোখ
হোক না আমার সর্বনাশ; যতো পারে হোক।
ভোগের উপচার শেষে ত্যাগী হব এবার
প্রেমের জন্যই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন
পাক পরোয়ার।
কল্পনা
আমার নাচের জলসাঘরে
নাচবে এসে ইরানি বাই।
তাক লাগিয়ে দেব তোদের
বাজবে যখন সোনার সানাই।
শরাব দিয়ে ভাসিয়ে দেব
জলসারঘরের ঝিলিমিলি।
ধরে নে না কল্পনাতে-
শাহজাদা সেলিম আমি।
নূরজাহানের তেলেসমাতি
চলবে না আর রাজ সভায়।
প্রেমের নামে ভুলিয়ে দেবে
হবে না আর সেই কসাই।
ভারতবর্ষের সম্রাট আমি
কাশান থেকে গোলাপ আনি।
চোখের মাঝে সুরমা মেখে
আতর মেখে গোসল করি।
হেরেমখানার নন্দীনীরা
আমার জন্যই বন্দী।
মরে যাব বীরের মতো
করব নাতো সন্ধি।
রাজ্য গেলে রাজ্য পাব
স্বর্ণ গেলে স্বর্ণ।
নন্দীনীরা উড়াল দিলে
সব কিছুইতো শূন্য।
মৌনতা
হারিয়ে যাব হারিয়ে যাব বলে
মানুষের ভিড়েই আছি।
মৌনতা ভুলে বেরিয়ে যাচ্ছে
কথার ফুলঝুরি।
পৃথিবীকে ভুলে সন্তদের মতো
হাঁটতে পারছি কই?
তোমাদের রেখে কন্যা কুমারীকায়
ধ্যানস্ত হব তারও ফুরসত নেই।
জঞ্জাল সরিয়ে আয়নার সামনে
দাঁড়ানো হয়নি কোনোদিন।
হিজিবিজি লিখে যাচ্ছি সব।
রোদ আর বৃষ্টি দুটোতেই ভিজছি।
না সংসার না সন্ন্যাস মাঝ নদীতে
ডুবে যাচ্ছে নৌকা আমার।
পৃথিবীর ছিদ্র খুঁজতে খুঁজতে
নিজের ভেতরেই ডুব দেইনি কোনোদিন ।
জানা হয়নি-
কেন পাঠালেন পাক পরোয়ার।
নিজেেকে আবিষ্কারের লিপ্সায়-
যদি রেললাইন ধরে হেঁটে যাই-
আর না ফিরি নিজস্ব ঘরে-
তবে যেন কেউ অবাক না হয়!
আমি উদভ্রান্তের মতো ঘুরছি
আর একটি মাত্র প্রশ্ন খুঁজছি
কেন এলাম কেন এলাম-
এই সুন্দর নন্দিত বাগিচায়।
পতন
নক্ষত্রের পতন হয়েছে যখন।
কণ্ঠে তোমার বীণার ঝংকার।
শ্বেত শুভ্র হাসি দিও নাগো আর।
মরণ প্রেমে চাই নাতো আর মরিবার।
ওগো শ্যামলা মেয়ে দূরাগত হও-
কান্দাইও না আর।
অনেক পতনে পতিত আমি-
ক্ষমা করো এবার।
যত্ন করে রাখিবে না জানি
কবুল করিবে না প্রেম।
মগরার তীরে এলে কেন তুমি
পুরাইতে মথুরার নবঘন শ্যাম।
জ্বলেছি অনেক পুড়েছি বারবার।
খোদার কসম বলছি শোন-
নারীমাত্রই নীল বিষে ভরা-
প্রেমিকা আমার।
সম্রাট নই শাহজাদা নই
আমি শুধু চির ফরহাদ।
শিরির মতো জ্বলে উঠ যদি
এই শুধু জীবনের সাধ।
মজনুর মতো দেওয়ানা হব না
তুমিও হবে না লাইলী আমার।
পরকীয়া প্রেম স্বীকৃত হবে না
ভাঙবে না আর ভাঙা সমাজ ।

