নগরধ্যান-১২
বেগুনী সাইরেন পেরিয়ে অর্জুন-রথ
কৃষ্ণ-সারথীর বুকে শিহরণ তুলে শিবের ধ্যান
দ্রৌপদী বৈভবে সরোদ সুরের আয়ু
লালবৃত্তে পাপিষ্ট বধের আহ্বান।
এখানে গ্রাম ছিলো; গাঢ় শালবনের কুঠির
অন্তর বিহঙ্গ ছোঁয়ে যাওয়া পুষ্প তরলে
রমণীর সূর্য-স্নান।
যুগল অতলে মহাকালের লৌহ কবজ
নগর অভিযাত্রায় জেগে উঠুক বিনীদ্র মানুষ।
নগরধ্যান-১৩
লিথিয়ামের খোলসে রমনার নাগলিঙ্গম
মেয়েটির প্রাত ভ্রমণে কুয়াশার বিষন্ন বিকেল
শতকোটি পায়ের পরিমাপে
নগর হাঁটে- বিপনী বিতানের ফানুসে!
তবু এ শহরে আছে বটের সবুজ অনুরাগ
একান্ত কাঠের ব্যালকনী-
বাদামী রোদের ওয়াটার মার্ক
প্রিয়তমার ঠোঁটের গজলে মুগ্ধ নয়নতারা।
নগরধ্যান-১৪
গোধূলির বানানে নিশ্চিহ্ন গ্রামের নরম আদর
প্রেমিকার খোঁপায় বুনো ফুলের দীর্ঘশ্বাস
মরিচিকায় অস্পষ্ট ভাবের দর্শন! নদীর করতলে
যীশুর তপস্যায় পৃথিবী আবার শুদ্ধ হবে।
মানুষ একই নগর খেলনা
হাজার ক্লান্ত পথে- আয়নায় আঁকে
দীর্ঘ শিকড়ের অঙ্ক।
শহর মায়ায় ডুবে গেলে
হিরন্ময় হয়ে উঠে আত্মার যুগল-চিহ্ন!

