সাঁঝের কবিতা
দিনের সব মাতাল হাওয়া দুই পাহাড়ের মাঝখানে;
একঝাঁক পাখির কলতান, জুম ঘরে চেরাগের আলো
সন্ধ্যার সময় পূর্বের পাহাড়ে একরাশ কুয়াশার রাজত্ব।
বিরেচমরা পাহাড় থেকে দেখা যায় নুতন-পুরান রাঙ্গামাটি
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে পাহাড়ের ছোটবড় ঝিরিগুলো জেগে ওঠে
কাট্টলির ঢেউ মাতাল হয়,
ফালিতাঙগে পাহাড় থেকে সন্ধ্যার অপার সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ে।
ঠিক! ঠিক সেই সময়
পায়ে নুপুর, হাতে বালা, সবুজ খাদি বুকে বেঁধে
সময়ের আহ্বানে
আমার প্রেয়সী, আমার ভালোবাসার মানুষ একা মনে বাড়ি ফিরে।
বর্ষার দিনলিপি
বর্ষায় পাহাড়ে মেঘের সখ্যতা
মেঠোপথ পেরিয়ে একরাশ কদম ফুলের গন্ধে ভিজে ওঠে বিস্তীর্ণ প্রান্তর
ডাহুকের কলতানে, জুম থেকে চেনা পথ বেয়ে ঘরে ফিরে জুমবি,
তার ঠোঁটে মৃদু একফালি হাসি, যেন মেঘভাঙা রোদের টুকরো।
গ্রীষ্ম আর বর্ষার টানাপোড়েনে,
ঘুম ভেঙে জেগে ওঠে ঝিরি, পাহাড়ের বুক বেয়ে নামে স্বচ্ছ সুর।
কর্ণফুলীর চরে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত সবুজের ঢেউ তোলে
জনপদের গান ভেসে আসে মানুষ আর মাটির গল্প হয়ে।
ক্রাউডং থেকে ফুরোমোন পাহাড় , বরগাঙ থেকে চেঙ্গী নদী
বর্ষায় পাহাড়ি তরুণীর জীবনবোধের গল্প বলে।
পাহাড়ের দিকে ফিরে
তুমি চলে যাওয়ার পর
নীলাভ পর্বত ভেদ করে
দক্ষিণের হাওয়া এসে ছুঁয়ে যায় আমাকে।
জুমঘর থেকে আঁধারে
একঝাঁক তারা দেখি
মনে হয়, তারাও তোমার অপেক্ষায়।
নিঃসঙ্গ শেরপার মতো
আমি পথ হেঁটে যাই,
পাশে শুধু বয়ে চলে বরগাঙ,
অবিরাম, অনন্ত।
তবু বৃষ্টির পর
সবুজ ফিরে আসে জুমের পরতে,
আর আমার ভেতর
ফিরে আসে শুধু তোমার নাম।

