পাতাঝরা দুপুরের গান
মুহুর্তের প্রতি ফাঁকে লুকিয়ে আছে
একটি মুখ; আদতে মুখশ্রী, বন্ধুগণ।
দিগম্বর সময়ের ঢালে যে অগুনতি পাখি
কিচিরমিচির করে, দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়—
তাদের কেউ শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।
জেনে রাখুন বন্ধুগণ, আমি চৈতন্য স্বভাবে
মাতোয়ারা হতে চেয়ে, বারবার
হারিয়ে ফেলেছি নিত্যানন্দ। ফুলের ঘায়ে
মূর্চ্ছা আমি যাইনি কোনোদিন— হৃদয়ের
কাঠিন্যে কোমলতা বিছিয়ে দিয়েছে নদীয়া।
নদের চাঁদ আকাশের বিশালতায় হারিয়ে
ফেলে ভোরের সৌরভ, শিউলির সুঘ্রাণ।
বন্ধুগণ, আপনারা এসব জানেন— অনেক
বেশিই জানেন। শুধু যেটুকু জানেন না,
আজ জানিয়ে দিচ্ছি নির্লজ্জ স্বভাবে—
শীতের আঘ্রাণ গায়ে মেখে
আমি গাইতে শিখেছি
পাতাঝরা দুপুরের গান।
অঙ্কের ম্যাম
জানি চোখ বুঝলেই খুলে যাবে সমস্ত জট।
জটার অনুশাসন মেনে কে বলো গঙ্গা হতে চায়!
আমাকে দেখা কেবল চোখের অপচয় তোমার।
কৃষ্ণকায় দিনে আমি ঘুরে ফিরি নীপ বনে— বুঁনো
উল্লাস ছাড়া কিচ্ছু শুনিনি। দেখিনি কাজল চোখা
হরিণী। আমার এ অব্যবহারিত হৃদয়ে
ছুঁয়ে যায় বারেবারে মায়া হরিণীর খুর-তীর।
রক্তপ্লাবণহীন এ চমৎকার উপকল্প তোমাকে
ছোঁবে না কোনোদিন। বাথট্যাবে ডুবে থাকা জলে
সাবানের ফেনা হয়ে এ বেঁচে থাকা।
জানি চোখ বুঝলেই খুলে যাবে সমস্ত জট।
জটিল ধাঁধার নামে ধরিয়ে দিয়েছো আস্তো
সরল গণিত।
বিমূর্ত
তোমার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে
কখন যে আয়নায় নিঃশ্বাস ফেলতে
শুরু করেছি, বুঝতে পারিনি। সুদীর্ঘ বায়ুপতন
অভ্যেসের দাসত্ব করছে।
সুদেষ্ণা,
ইউক্যালিপটাসের মতো নির্বিকার
দাঁড়িয়ে আছি— পরিপার্শ্ব জুড়ে সোনাঝুরি, সোনালু
উৎসব। শারদীয় অধিবেশন আর ব্যক্তিক চৈতন্য
সমাবেশে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে পারিনে। তাই
দমনের সাধনা আমার হলো না; হলো না
নির্বাণের নির্মোহ পাঠ।
বড় বেশি জেনে গেছি আয়নার দর—
সময় বুঝে দাঁড়িয়ে পড়ি সামনে; আর
নিঃশ্বাসের সুগভীর অপ্রকাশে
চেনা চেনা মুখগুলো বিমূর্ত হতে থাকে।

