Wednesday, August 12, 2026
  • Login
  • হোম
  • পরিচিতি
  • প্রবন্ধ
  • কবিতা
  • গল্প
  • সাক্ষাৎকার
  • বই আলোচনা
  • আলোকচিত্র
  • প্রতিবেদন
  • অনুবাদ সাহিত্য
  • বিশেষ আয়োজন
  • বিবিধ
  • কবি-লেখকবৃন্দ
No Result
View All Result
  • হোম
  • পরিচিতি
  • প্রবন্ধ
  • কবিতা
  • গল্প
  • সাক্ষাৎকার
  • বই আলোচনা
  • আলোকচিত্র
  • প্রতিবেদন
  • অনুবাদ সাহিত্য
  • বিশেষ আয়োজন
  • বিবিধ
  • কবি-লেখকবৃন্দ
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Home প্রবন্ধ

প্রবন্ধ || হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে || স্বপন পাল

Chatal by Chatal
August 12, 2026
in প্রবন্ধ
A A
0
হে পূর্ণ, তব চরণের

আজ ১৩ আগস্ট ২০২৬| যতীন সরকারের প্রথম প্রয়াণ-বার্ষিকী| ২০২৫-এর ১৩ আগস্ট মহাপ্রস্থানের পথে যাত্রা করেছেন মহাপ্রাণ যতীন সরকার|
প্রয়াণের আগে বেশ কয়েক বছর ধরে যতীন সরকার জন্মদিনের বক্তৃতা শেষ করতেন এই বলে যে,
‘যাবার দিনে এই কথাটি/বলে যেন যাই–
যা দেখেছি যা পেয়েছি/ তুলনা তার নাই |’

এটি শুধু তাঁর কথার কথা ছিল না| গভীর বিশ্বাস থেকেই তাঁর এই উচ্চারণ| আর এও আমরা জানি, যতীন সরকার কথা বলতেন অনেক, কিন্তু ‘কথার কথা’ বলতেন না এতোটুকুও| ক্ষুদ্র এই এক জীবনে এই পৃথিবীর জন্যে যতোটা করতে পারেন একজন মানুষ, যতীন সরকার সবটুকু দিয়ে ততোটাই করার প্রয়াস চালিয়েছেন|

যতীন সরকারকে যারা জানি, তারা এও জানি যে এক প্রচন্ড সংগ্রামমুখর জীবন কাটিয়েছেন তিনি| আর্থিক দরিদ্রতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম তো ছিলই| কিন্তু সেটিকে মূখ্য করে তুলেননি জীবনে| তিনি বলতেন ‘জীবনের জন্যে জীবিকা, জীবিকার জন্যে জীবন নয়|’ হতে চেয়েছেন বৌদ্ধিক ধনে ধনী এবং হয়েছিলেনও তাই|

দু:খকে হাসি দিয়ে আড়াল করা নয়, ‘দুঃখ-আত্মসাৎ করাই আনন্দ’ই ছিল তাঁর জীবনের অভিমুখ| আট থেকে আশি, পন্ডিত থেকে চাষী সবার সাথে মেশার এক অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর|

‘দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদ’ ছিল যতীন সরকারের জীবন-দর্শন| সামগ্রিক গ্রাম জীবনের মানবপ্রকৃতি, ইহজাগতিক চিন্তাভাবনা, লোকায়ত জীবন-ধর্ম-সংস্কৃতির পাঠ গ্রহণ করে সেটিকে সমাজ পরিবর্তনের আধুনিকতম তত্ত্ব ‘দ্বান্ধিক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদের’ আলোকে বিশ্লেষণ করেছেন এবং ‘মার্কসবাদের যান্ত্রিক অনুশীলনের পরিবর্তে’ এর সৃষ্টিশীল প্রয়োগের প্রসারতা বাড়িয়েছেন যতীন সরকার| এ জন্যে তিনিই সম্ভবত প্রথম, যিনি আমাদের ঐতিহ্যের মধ্যেই সমাজতন্ত্রের উপাদান খুঁজে বের করেছেন এবং তা সাহসের সঙ্গে যুক্তির সৌষ্ট্যবে উপস্থাপন করেছেন তাঁর ‘বাঙ্গালীর সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য’ গ্রন্থে| বাঙালির বৃহত্তর সমাজের মধ্যে তিনি সমাজতান্ত্রিক তথা সাম্যবাদের ঐতিহ্য খুঁজে পেয়েছেন|

তিনি মনে করতেন, মার্কস-এঙ্গেলস মানবসমাজে ও প্রকৃতিতে ক্রিয়াশীল নিয়মগুলো আবিষ্কার করে ইতিহাসের আলোকে একটি রূপরেখা তৈরি করেছেন মানুষের এগিয়ে যাবার জন্যে| আপাতত এটিই পথ, এরপর আরও নতুন পথ ও মত আসতেই পারে এবং অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে এ বিষয়ে মানুষের জ্ঞান আরও বিকশিত হবে বলেই বিশ্বাস ছিল তাঁর| নব্বইয়ের দশকে বিশ্ব জুড়ে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা যখন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলো, নতুন নানা মতের উদ্ভব ঘটতে লাগলো, সমাজতন্ত্রের বিপক্ষে কথাবার্তার ব্যাপক জোয়ার চলতে থাকলো| তখন যে অল্প কয়েকজন মানুষ সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখে কলম ধরেছিলেন, দেশের নানা প্রান্তে এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন, যতীন সরকার তাদের মধ্যে অন্যতম| কিন্তু সেই যুক্তিপ্রয়োগের ধারাকে কখনো গোঁড়ামীর পর্যায়ে নিয়ে যাননি| তাঁর স্লোগান ছিল, ‘মার্কসবাদ ছাড়িয়ে যাওয়া প্রগতি, এড়িয়ে যাওয়া আত্মঘাতী|’

লোকায়ত জ্ঞানের প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল যতীন সরকারের| নিবিড়ভাবে চর্চা করে তিনি এই জ্ঞান আয়ত্ত্ব করেছেন| অধ্যয়ন করেছেন পৃথিবীর নানা ধর্মগ্রন্থ| সাথে নিবিষ্ট থেকেছেন বিদ্যাসাগর, রামমোহন, বঙ্কিমচন্দ্র, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, গোপাল হালদার, রাহুল সাংকৃত্যায়ন, ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়সহ অনেক জীবন দিশারী মানুষের সৃষ্টিতে| তাদের অনেকের মাঝেই সন্ধান করেছেন সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্যের| প্রাচ্যের সাথে মিলিয়েছেন পাশ্চাত্যের জ্ঞানপ্রবাহের ধারাকে| অধ্যয়ন করেছেন কার্ল মার্ক্স, এঙ্গেলস, লেনিন, ফ্রয়েডসহ অনেক মনীষীর রচনা| তিনি যেমন পাঠ নিয়েছেন নানা গ্রন্থ থেকে, তেমনি মানুষ ও প্রকৃতির ভেতরেও করেছেন জ্ঞানের অনুসন্ধান| এই দুইয়ে মিলেই হয়ে উঠেছিলেন প্রজ্ঞাবান এক মানুষ|

কর্ম ও সৃষ্টিমুখর জীবন ছিল যতীন সরকারের| তিনি বিশ্বাস করতেন এটিই ‘বেঁচে’ থাকা| এই প্রসঙ্গে মনোবিজ্ঞানী ডা: ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের বলা রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে একটি বাক্য প্রায়ই উচ্চারণ করতেন- ‘‘রবীন্দ্রনাথ সারাজীবন ‘বেঁচে’ ছিলেন”| ‘বেঁচে’ থাকা মানে কর্মশীল থাকা, সৃষ্টিশীল থাকা|

গত কয়েকবছর ধরে নানারকম শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি লিখতে পারছিলেন না| এজন্য ‘কেমন আছেন’ জিজ্ঞেস করলে উত্তরে বলতেন, ‘জীবিত’ আছি ‘বেঁচে’ নেই| সাথে মজা করে বলতেন ‘আমি তো রবীন্দ্রনাথকে অপমান করতে পারিনা| তাই আশির পর আর লিখি না|’ ব্যক্তিগত দু:খ-কষ্টকে এভাবেই দূরে সরিয়ে রাখতেন যতীন সরকার|

যতীন সরকারের সততা ছিল ঈর্ষণীয় এবং অনুকরণীয়| সাধারণ্যে আর্থিক সততার বিষয়টি বেশি আলোচিত হয়| এ বিষয়ে তাঁকে নিয়ে কোনো প্রশ্নই উঠা অসম্ভব| বৌদ্ধিক সততার ব্যাপারটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ| যখন দেশে তো বটেই পৃথিবী জুড়ে নানান ফন্দিফিকিরের বুদ্ধিবৃত্তির দাপট, তখন যতীন সরকার শতভাগ সততার সাথে বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা চলমান রেখেছেন আমৃত্যু| যা বিশ্বাস করতেন, তা অপকটে বলতেন| কখনো কারো বা কোনো গোষ্ঠীর মনরক্ষার জন্যে এমনকিছু লিখেননি বা বলেননি, যা তার চিন্তার সাথে যায় না|
তিনি বলতেন,
‘মনেরে আজ কহ যে,/ ভালো মন্দ যাহাই আসুক/ সত্যেরে লও সহজে|’
এবং একইসাথে সাধন-মন্ত্র হিসেবে উচ্চারণ করতেন,
‘সত্য যে কঠিন / কঠিনেরে ভালোবাসিলাম / সে কখনো করে না বঞ্চনা|

সমাজ-চিন্তক, প্রাবন্ধিক, গবেষক, দার্শনিক, বামপন্থী বুদ্ধিজীবী ইত্যাদি নানা অভিধায় স্যারকে আখ্যায়িত করা হয়েছে| যতীন সরকার নিজেকে ‘শিক্ষক’ হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্ধ বোধ করতেন| মূলত তিনি হয়ে উঠেছিলেন ‘গণশিক্ষক’|

নিবিড় ও নিরন্তর জ্ঞান সাধনা, জীবন চর্চা ও চর্যায় এর প্রয়োগ, আত্মস্থ করার অপার ক্ষমতা, প্রখর ও কালব্যাপী স্মৃতিশক্তি এবং জীবনভর ‘হয়ে উঠা’র সাধনায় জ্ঞানে-মেধায়-চিন্তায়-সৃজনে-কর্মে, বৌদ্ধিক সততায় এবং মানুষকে ভালোবাসার অসীম ক্ষমতায় যতীন সরকার হয়ে উঠেছিলেন একজন পূর্ণ মানুষ| সশরীরে যতীন সরকার নেই, এ যেমন সত্য, তেমন তিনি আছেন সবটা জুড়ে,-এ হচ্ছে পরম সত্য| প্রথম প্রয়াণ-বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে আজকের লেখার ইতি টানতে এই বলে যে,

‘হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে
যাহা-কিছু সব আছে আছে আছে-
নাই নাই ভয়, সে শুধু আমারই, নিশিদিন কাঁদি তাই|
অন্তরগ্লানি সংসারভার পলক ফেলিতে কোথা একাকার
জীবনের মাঝে ¯ স্বরূপ তোমার রাখিবারে যদি পাই|’

– স্বপন পাল, প্রাবন্ধিক ও উন্নয়নকর্মী

 

স্বপন পাল- কবি ও প্রাবন্ধিক। জন্ম ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দের ৯ জানুয়ারি। পিতা স্বৰ্গীয় সন্তোষ কুমার পাল, মাতা নির্মলা বাসিনী পাল। বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর স্বপন পাল-এর লেখালেখি শুরু ছাত্রজীবন থেকেই। ছাত্রজীবনে ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত মাসিক পত্রিকা ‘বজ্র’র নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সক্রিয় ছিলেন ছাত্র সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও। এ পর্যন্ত প্রকাশিত বই প্রবন্ধ ও জীবনী: ডিরোজিও : মুক্তচিন্তার পথিকৃৎ, রবীন্দ্রনাথ গান্ধী সুভাষ পারস্পরিকতা, নো নেশন ও রবীন্দ্রনাথের রাজনীতি, অক্টোবর বিপ্লব ও রবীন্দ্রনাথ, আনন্দমোহন বসু : ইতিহাসের অপ্রকাশিত অধ্যায় [মৃন্ময় পাল সংলাপ-এর সঙ্গে যৌথভাবে] সামাজিক শক্তির বিকাশ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ [সংকলন] নজরুল: এ লিভিং লিঙ্ক, কালান্তরের পথনির্মাতা-কাদম্বিনী, রবীন্দ্রনাথ বিবেকানন্দ: কাছে ও দূরে। উপন্যাস ময়মনসিংহ জংশন। কবিতা জীবনটাকে ছোঁব বলে, আমাকে উপেক্ষা করো এমন শক্তি কোথায়। বর্তমানে একটি বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Tags: ChatalBDপ্রবন্ধযতীন সরকারস্বপন পাল
Previous Post

কবিতা ।। সজল অনিরুদ্ধ

Chatal

Chatal

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • About
  • Advertise
  • Privacy & Policy
  • Contact
বাংলামটর, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ই-মেইল: [email protected]

© 2021 Chatalbd - Design & Developed By Developer Rejwan.

No Result
View All Result
  • হোম
  • পরিচিতি
  • প্রবন্ধ
  • কবিতা
  • গল্প
  • সাক্ষাৎকার
  • বই আলোচনা
  • আলোকচিত্র
  • প্রতিবেদন
  • অনুবাদ সাহিত্য
  • বিশেষ আয়োজন
  • বিবিধ
  • কবি-লেখকবৃন্দ

© 2021 Chatalbd - Design & Developed By Developer Rejwan.

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In