সময়
একটা দুর্দান্ত সময় যাচ্ছে!
মায়ের চোখকেও নতুন করে পড়ছি!
জীবনের পথে ছড়িয়ে থাকে যে বর্ণমালা-
কিতাবের অক্ষরে তার কিচ্ছু নেই।
এই জান্নাত পরজীবীদের জন্য নয়।
কপাট বন্ধের আওয়াজ থেকে শিখছি।
এতো প্রেম কোন দিল কাবায় রেখে পুলসিরাতে উঠব- ভাবছিতো ভাবছি।
আমিও সেই ডাকাত বাল্মিকী পাপের পয়জন কেউ নেয়নি।
রামের জন্মের আগেই রামায়ণ লিখে ফেলব এমন কালিও খুঁজে পাইনি।
পথহারা নদীও সমুদ্র খুঁজে নেয়। ঝড়কে অতিক্রম করে বাইসন।
পালের গরু কখনোই হতে চাইনি।
নিকষ আন্ধারেও পাখির চোখই দেখছি।
লক্ষ্য ভেদ করে তীরটা সামনের দিকেই যাচ্ছে।
ধনুকের টঙ্কারে যারা পালিয়েছে তাঁদের নামগুলো ব্ল্যাকবোর্ডে আঁকছি।
চন্দন দার আম মেশানো মুসুরির ডালে এখনো চুমুক দিচ্ছি।
অগস্ত্য যাত্রা
ডুবে যাওয়া হিজায় মায়া রেখে অগস্ত্য যাত্রায় যাচ্ছেন বিদ্যান কৃষক।
ঝড় আর বৃষ্টি থামছে না দেখে তার এই মর্কট বৈরাগ্য।
তিনি কখনো নিজের দিকে আঙুল তাঁক করেননি।
কৃষি কর্তাদের দিকে আঙুল তুলে নিয়েছেন এই সিদ্ধান্ত।
তিনি বিশ্ববিশ্রুত সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ পড়েছেন।
বুদ্ধের অষ্টাঙ্গিক মার্গ তার মুখস্থ।
তার কথায় কথায় কিটসের অমর পঙক্তি-
‘সত্যই সুন্দর’।
তিনি জানতেন লিঙ্কন পরাজিত হতে হতে চূড়ায় উঠেছেন।
নথুরাম গডসেতো কৃষকেরই নিকট প্রতিবেশী।
বিদ্যান কৃষক এও জানতেন সন্ন্যাস থেকে কর্মযোগ মহান।
তার অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে।
তার অহম আকাশ ভেদ করেছে।
তার জিহবা বিষধর গোখরোর মতো।
তার দান কর্ণের মতো ছিলো না নির্মোহ।
তিনি আজন্ম শুনেছেন ‘সর্বং খল্লিদ্বং ব্রহ্ম’।
তিনি জানেন মান আরাফা নাফসাহু…।
তবু আত্মাকে প্রসারিত করে ধান বুনেননি কোনোদিন।
তিনি ডুবে যাওয়া হিজার কাছে হেরে গেছেন।
ঢলের পানি রোধ না করে শ্মশান বৈরাগ্য নিয়ে
অগস্ত্য যাত্রায় নেমেছেন।
কচ্ছপের জীবন
খুনির কুঠার প্রস্তুত হলে কচ্ছপ বুঝে যায় আসন্ন বিপদ।
কঠিন খোলসে মুখ লুকিয়ে পিট পিট চোখে দেখে প্রাণ হারানোর আয়োজন।
জীবন বাঁচানোর চেষ্টায় কমতি থাকে না তার।
কচ্ছপের আয়ু কম করে হলেও দুইশত বছর।
অকালমৃত্যু ফেরাতে কচ্ছপ অনন্ত সময় নিজেকে গুটায়।
কচ্ছপের ধৈর্যের কাছে হন্তারকের অস্থির চিত্ত পরাজিত হয়।
নৃশংসভাবে হত্যার শিকার নিরীহ কচ্ছপ কুচি কুচি হয়।
মাটির চুলায় লোভী জিহ্বার জন্য কালো ভুনা হয়।
একেকটি কচ্ছপ লড়াই করে করে পরাস্ত হয়।
সময়ের ব্যবধানে কচ্ছপ আর হন্তারক সমান্তরাল।
জীবনের পথে হাঁটতে গিয়ে হন্তারকও কচ্ছপ হয়ে যায়।
বাঁচার আকুতি নিয়ে সেও মুখকে লুকিয়ে মুখোশ পড়ায়।
এর কাছে যায় ওর কাছে যায়।
বাঁচার বদলে উপহাস পায়।
কেউ কেউ আবার নেপোলিয়ন হিলের মোটিভেশান শোনায়।
একটা সময় হন্তারক হেমলক পান করে করে প্রলাপ বকে যায়।
কেউ কেউ আবার প্রেম আর প্রীতির গীত শোনায়।
মানুষও আসলে কখনো কচ্ছপ কখনো হন্তারক হয়ে যায়।
একা এসেছে একাই মাটিতে পা শক্ত করে দাঁড়ায়।
তবে এই লড়াইয়ের জ্যামিতি নিখুঁত জানতে হয়।
কম্পাস এদিক ওদিক হলেই পতন নিশ্চিত হয়।
কচ্ছপ গভীর সমুদ্রে একা একা সাঁতরায়।
মানুষ কেন ভেড়ার পালে পালে ঘুরে নাই হয়ে যায়?

